গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের ফাঁসিসহ বিচারের দাবিতে কেরানীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি(শুক্রবার) বিকেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে অমির নেতৃত্বে পরিচালিত বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ওয়াসপুর বসিলা ব্রিজ হতে শুরু হয়ে ঘাটারচর শহীদ রিয়াজ চত্বর, আটিবাজার, নয়াবাজার,খোলামোড়া বাজার হয়ে নরন্ডী মোড়ে গিয়ে শেষ।
মিছিলে ঢাকা-২ আসনের অন্তর্গত কেরানীগঞ্জের সাত ইউনিয়ন, সাভারের একাংশ ও কামরাঙ্গীরচরের ৫৫,৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ড বিএনিপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
দীর্ঘদিন পর মিছিলের সুযোগ পেয়ে জুমার নামাজের আগ থেকেই কেরানীগঞ্জের জনসাধারণ ও বিএনপি এবং অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ রিয়াজ হোসেন চত্বরে জড়ো হতে থাকে। বেলা তিনটার আগেই মধুসিটি মোড় হতে বসিলা ব্রিজ পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে আমান পুত্র ব্যারিস্টার অমির নেতৃত্বে মিছিল শুরু হলে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানায়, এসময় তিনি দুহাত নাড়িয়ে জনসাধারণের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
মিছিলটি প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা হয়। সচেতন মহল মনে করছেন বিক্ষোভ মিছিলটি যেনো একের ভেতর সব। শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবির পাশাপাশি ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি কেরানীগঞ্জবাসীকে জানান দিলেন কেনো তিনিই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী? তার জনপ্রিয়তা যে বাবার চেয়ে কম না এই দীর্ঘ মিছিল আর রাস্তার দুই পাশের হাজারো মানুষের ঢ্ল তা প্রমাণ করে।
পরে তিনি নড়ন্ডী মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, আর তারেক রহমান দেশের এই ক্রান্তিকালে হাল ধরেছেন ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি আরও বলেন, দেশে যখনই ক্রান্তিকাল এসেছে তখনই জিয়াউর রহমানের পরিবার হাল ধরেছে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন মিনু, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, সিনিয়র সহসভাপতি শামিম হাসান, সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, হাজী রুহুল আমিন, মনির হোসেন, আবুল হাসনাত, যুবদলের আহবায়ক হাজী আসাদুজ্জামান রিপন, সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রুবেল, সাবেক যুবদল নেতা মাসুদ রানা,ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ওয়ালিউল্লাহ সেলিম,ছাত্রদল নেতা হাজী সাইফুলসহ অনেকে।